ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

বগুড়া আদালত চত্বরে তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা, উত্তেজনা

জেলা প্রতিনিধি   |   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   9 বার পঠিত

বগুড়া আদালত চত্বরে তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা, উত্তেজনা

বগুড়ার আদালত চত্বরে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

তরুণীর নাম তাসনিম রানা তামান্না। এদিন তাঁর ১৮ বছর পূর্ণ হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তাঁকে রাজশাহী সেফ হোম থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এ সময় তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান তামান্না। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিজ জিম্মায় যাওয়ার আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদমদীঘি থানা আমলী আদালতের বিচারক আবু হেনা সিদ্দিকী তামান্নাকে নিজের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।

আদালতের কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তামান্না। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হলে তাঁকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। পরে আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টরকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশি নিরাপত্তায় কোর্ট ইন্সপেক্টর ও বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আদালত ভবন থেকে বের হন তামান্না। তবে আদালতের ফটক পার হওয়ার পর তাঁর বাবা-মা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় তামান্না চিৎকার করে তাঁদের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কোর্ট ইন্সপেক্টর, ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

বাবা-মায়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল ও তামান্নার বাবা মো. রানা মাসুদ অভিযোগ করেন, আদালতে মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা থাকলেও আসামিপক্ষের লোকজন ও আইনজীবীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁর মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান রানা মাসুদ।

তামান্নার সৎ মা মোছা. সুরাইয়া বলেন, আদালতের আদেশের পর বাইরে আসার সময় তাঁরা শুধু মেয়ের হাত ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আসামিপক্ষের লোকজন ও একজন আইনজীবী তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করেন।

তাঁর দাবি, তামান্নাকে পাচার বা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা মেয়েকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চান।

সাহেদের বিরুদ্ধে দুটি অপহরণ মামলা

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিরাপত্তা এবং আদালত প্রাঙ্গণে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তামান্নার সঙ্গে বিয়ের কথা বলা হচ্ছে সাহেদ হোসেন (২০) নামের এক তরুণের। তাঁর বিরুদ্ধে তামান্নার বাবা রানা মাসুদ দুটি অপহরণ মামলা করেছেন। মামলার অভিযুক্ত সাহেদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

নিখোঁজের পর সেফ হোমে তামান্না

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তামান্না নিখোঁজ হলে তাঁর বাবা মো. রানা মাসুদ আদমদীঘি থানায় মামলা করেন। পরে তামান্না ও সাহেদ হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে তাঁরা বিয়ে করেছেন বলে জানান এবং তাঁদের খোঁজাখুঁজি না করার অনুরোধ করেন।

এরপর সাহেদের বিরুদ্ধে দুটি অপহরণ মামলা করেন তামান্নার বাবা। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাঁর বাবার হেফাজতে দেয়। আবারও পালিয়ে গেলে তাঁকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী সেফ হোমে পাঠানো হয়।

সেখান থেকে সোমবার তাঁকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে নিজের জিম্মায় যাওয়ার অনুমতি দেন। এরপর আদালত চত্বরে তাঁকে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

Facebook Comments Box

Posted ৬:২৬ এএম | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।